তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যটক ও বনজীবী মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালীরাও বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ পাস নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে ঢুকতে পারবেন।
মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষায় প্রতিবছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় তিন হাজার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে ৪ শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।
এ ছাড়া পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারনে পর্যটকদের তেমন দেখা যায়নি। একই সাথে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশে অপেক্ষা করতে হচ্ছে জেলে ও পর্যটন নৌকার মাঝিদেরও।
দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর সুন্দরবন খোলার খবরে বননির্ভর পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে জীবিকার নতুন প্রত্যাশার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে। স্থানীয় বনজীবীদের অভিযোগ, দস্যুদের চাঁদাবাজি, নৌকা থামিয়ে হয়রানি ও অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে।
শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম জানান, এতদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আজ থেকে পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও সুন্দরবনে যেতে হবে। বনে মাছ ধরে সংসার চালাতে হবে। তবে, মনের ভিতরে তাদের কিছুটা হলেও বনদস্যু আতংক কাজ করছে বলে জানান।
পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান জানান, তিন মাস পর আজ পাস পেয়েছেন তারা। এতে খুবই খুশি। কিন্তু ভারী বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।
তাদের দাবি, সরকারি নিবন্ধনের আওতায় থাকা মানুষের বাইরেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।
সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন নদীঘাট ও জেলে পল্লীতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও পুরোনো নৌকায় আলকাতরা লাগানো হচ্ছে, কোথাও ছেঁড়া জাল মেরামত করা হচ্ছে। কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জেলেরা।
বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বনে প্রবেশ এবং মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। চলতি বছরও তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোকে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা। সুন্দরবন ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জাহাজ ও লঞ্চ পর্যটকদের বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান জানান, তিন মাস সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছগাছালির বৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির সংখ্যাও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।


