ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেট
Advertisement
Advertisement

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৮৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকছে অন্তত ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।’

তিনি জানান, ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ইউজিসির বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে আসবে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কমপক্ষে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ঘাটতি থাকবে।

আরও পড়ুন

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ শুধুমাত্র মৌলিক ও ফলিত গবেষণার জন্য ব্যয় করে থাকে।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বরাদ্দের মোট চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চাহিদামতো বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেটের ব্যয়ের সিংহভাগই বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, অবশিষ্ট অংশ থেকে পণ্য ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ, গবেষণা মঞ্জুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে গবেষণা, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণের মতো অত্যাবশ্যক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।

ইউজিসির বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে কোষাধ্যক্ষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকার যে অর্থ দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ফান্ড আসে না।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সমৃদ্ধ দান-তহবিল, শিল্প-সংযোগ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদানের মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে আমরা এ খাতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রত্যাশা করছি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad