কক্সবাজারের টেকনাফে আলাদা ঘটনায় অপহৃত এক রোহিঙ্গা ও নিখোঁজ এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পরে দুজনকেই নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার আলাদা অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ জাদিমুড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা মোক্তার আহাম্মেদ (৪৯) শুক্রবার রাত থেকে অপহৃত ছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। পরদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
পরে পরিবারের অভিযোগের পর ক্যাম্প কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার এম এ ফায়সালের নেতৃত্বে এপিবিএনের একটি দল অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাদিমুড়া বাজার সংলগ্ন ইটভাটার রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিবিরের ব্লক মাঝিদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন ইয়াসিন উল্লাহ (৫) নামে এক রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড শরণার্থী শিবিরের চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ইয়াসিন উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে পরিবারের সঙ্গে টেকনাফের শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয় বলে জানিয়েছে এপিবিএন। পরে নিয়মিত টহলকালে এপিবিএনের মোবাইল টিম তাকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে। পরে আন্তর্জাতিক সেবাদানকারী সংস্থা সেইভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার বলেন, ‘দুটি পৃথক ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্য ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তি এবং নিখোঁজ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া দুজনকেই প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এপিবিএন ক্যাম্পে সাধারণ ডায়েরিতে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।’


