টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি বাড়ি থেকে বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুটি অটোভ্যানে করে বাড়ি থেকে বইগুলো অন্যত্র নেওয়ার সময় সন্দেহ হলে কয়েকজন যুবক খোঁজ নেন। পরে তারা দেখতে পান, বইগুলো নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই। তখন তারা স্থানীয় সংবাদকর্মী ও পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মোবারক বলেন, ইব্রাহীম হোসেন মাঝেমধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার তিনি ওই গুদাম থেকে কয়েক ভ্যান পাঠ্যবই কিনে বাড়িতে আনেন। বুধবার সেগুলো অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে কেজি দরে বইগুলো কিনে এনেছেন।’ এতে তার কোনো দোষ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বলেন, তার অগোচরে নাইটগার্ড এ কাজ করেছেন।
মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং পাঠ্যবই জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবইগুলো কীভাবে ও কোথা থেকে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।


