চরম জনবল ও যানবাহন সংকটে পড়েছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) পরিবহন শাখা। মাত্র একজন হেলপার দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বাস, যার ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বহরে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চারটি বাস এবং একটি ভাড়ায় নেওয়া লোকাল বাস। নিজস্ব চারটি বাসের বিপরীতে চালক রয়েছেন তিনজন। সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হলো, চারটি বাসের সহায়তার জন্য হেলপার আছেন মাত্র একজন, যিনি মূল পেশায় একজন নিরাপত্তা প্রহরী। পর্যাপ্ত হেলপার না থাকায় সরু রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত বাস চলাচলের কারণে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এমন এক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।
বর্তমানে জাবিপ্রবির প্রায় ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জামালপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করেন। তবে পর্যাপ্ত বাস না থাকায় ক্লাস ও পরীক্ষা শেষে ছুটির সময়ে দেখা দেয় তীব্র ভোগান্তি। ধারনক্ষমতার দ্বিগুণ শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে একটি বাসেই গাদাগাদি করে ওঠেন। গরমে প্রাণ হাঁসফাঁস অবস্থা নিয়ে, এমনকি দরজায় ঝুলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়।
পরিবহন শাখার এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি জানান, তাদের পাঁচটি বাসের মধ্যে একটি মিনিবাস কর্মচারীদের চলাচলের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
শহরের সরু রাস্তায় হেলপার ছাড়া গাড়ি চালানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বাসে বসার কিংবা দাঁড়ানোর মতো জায়গা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নিজ খরচে বিকল্প উপায়ে শহরে ফিরতে হয়।
পরিবহন ভোগান্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কাজ বড় ও ছোট গাড়ির ভিত্তিতে আলাদা ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। হেলপার সংকটসহ জনবল ঘাটতি মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে ইতিমধ্যে নতুন পদের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া নতুন বাস কেনার অনুমতি না থাকায় ভোগান্তি নিরসনে ভাড়ায় বা চুক্তিভিত্তিক বাস সংগ্রহের পরিকল্পনা চলছে।


