চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধায় ‘হানাদার মুক্ত দিবস’

চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধায় ‘হানাদার মুক্ত দিবস’
মাগুরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের হয় | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধায় ‘হানাদার মুক্ত দিবস-২০২৫’ পালিত হয়েছে।

রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি।

র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোস্তাফিজুর রহমান, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্রমুখ।

এদিন মাগুরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে ভোর থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাসহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

গাইবান্ধায় হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত | ছবি: টাইমস

একই দিন গাইবান্ধায় হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুপুরে গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গাইবান্ধা জেলা কমান্ড।

আলোচনা সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে সাতক্ষীরা মুক্তদিবস | ছবি: টাইমস

অন্যদিকে এদিনই নানা আয়োজনে ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে গৌরবোজ্জ্বল সাতক্ষীরা মুক্তদিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় নিরবতা পালন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন জেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনেরা।

শোভাযাত্রা শেষে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুজ্জামান খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহমেদ মোল্লা।

সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ওষুধবাবদ প্রত্যেকের অনুযায়ী ৭৫ হাজার টাকা করে দেয় সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে গেলে মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসা ও ওষুধ পায় না। এমনকি বসার জায়গা পর্যন্ত পায় না। এটা খুবই দুঃখজনক।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অখুন্ন রাখতে আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠতে হবে। স্বাধীনতার পর এতো বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলার শিকার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম জানান, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সাতক্ষীরার অনেক বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর