চট্টগ্রামে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট

চট্টগ্রামে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট
সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আজিম গ্রুপের হাজারও শ্রমিক। শনিবার নগরের চান্দগাঁও এলাকায় গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এই কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এদিন সকাল ১১টার দিকে সি অ্যান্ড বি এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন তারা। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন, অনেকে শেষ পর্যন্ত হেঁটেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষা করছে আজিম গ্রুপ। তাদের দাবি, ২০২০ সাল থেকে টিফিন ভাতা বকেয়া রয়েছে, ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভার টাইম কাজের পারিশ্রমিকও পরিশোধ করা হয়নি।  নারী শ্রমিকরা পাননি মাতৃত্বকালীন সুবিধাও।

বকেয়া বেতন দাবির পাশাপাশি তারা নতুন কিছু দাবিও উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি মাসের শুরুতেই সময়মতো বেতন প্রদান, ওভার টাইম কমানো ও শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন ভাতা বৃদ্ধি এবং উপস্থিতি বোনাস চালু করা।

বিক্ষোভরত শ্রমিক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান লিমন জানান, তিনি এখনও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন পাননি। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুই মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কেবল এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আরেক কর্মী আকলিমা খাতুন বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে মাতৃত্বকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি, ফলে অনেক শ্রমিক বাড়িভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।’

সড়ক অবরোধের কারণে জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলাম জানান, রোগী নিয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে আটকে ছিলেন। পরে সীমিতভাবে পথ ছেড়ে দিলেও তীব্র যানজটের কারণে খুব বেশিদূর আগানো যায়নি।

এদিকে ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধিকেও দেখা যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসাইন মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আজিম গ্রুপের একটি কারখানায় গত পাঁচ মাস ধরে কাজের অর্ডার নেই বলে জানা গেছে। এই বিক্ষোভের বিষয়ে আমাদের আগে কোনো তথ্য ছিল না। শ্রমিকরা হঠাৎ সড়কে নেমে পড়েছেন। দ্রুত সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর