সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানি ধর (৭১) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা রানি ধর দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। এর পাশাপাশি তার হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ছিল। তার ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তিনি চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। ছেলে মুক্ত হবেন- এ আশায় তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তবে ইতিবাচক কোনো ফল না পেয়ে চট্টগ্রাম ফিরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে তীর্থস্থান বিবেচনায় পুণ্ডরীক ধামে অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করে তাকে রাখা হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি মারা যান।
এদিকে, মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রথমে পুণ্ডরীক ধাম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট তোলা হবে এবং এরপরই আইনি প্রক্রিয়ায় প্যারোলের আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে। প্যারোল মঞ্জুর ও জামিনে বের হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করেই শেষকৃত্যের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী।
অন্যদিকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আবেদনপত্র পেলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ওই দিন আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন, যে মামলায় পরবর্তীতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকেও গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।


