গাজীপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাইনবোর্ড এলাকায় উত্তেজনা

গাজীপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাইনবোর্ড এলাকায় উত্তেজনা
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার সকালে কাজে যোগ দিলেও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অনুপস্থিতি ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অন্তত ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

সকালে গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েকটি কারখানা বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও নলজানি এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তায় হামলায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে এনসিপির যুবশক্তি। সেখানে বক্তব্য চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে উপস্থিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। কিন্তু ছুটি ঘোষণা করা কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার সময়ও তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে, বুধবার মজুরি বোর্ডে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় টোল প্লাজা ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে আটক করে শিল্প পুলিশ। এ ঘটনায় ১ হাজার ২০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে বাসন থানায় মামলা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, মহাসড়কে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশের পাশাপাশি তাদেরও তৎপরতা দেখা যায়।

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৫ প্লাটুন বিজিবি, ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

গাজীপুরে দুই হাজারের বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কারখানার মালিকপক্ষ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad