গণভোট বা অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় জামায়াত

গণভোট বা অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় জামায়াত
ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ছবি: ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

গণভোট অথবা অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।

রোববার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আজাদ জানান, ‘জুলাই সনদ ২০২৫’বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে দুটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো, একটি প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার জারি করা, ইতিহাসে যার নজির রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অপশন বলেছি — একটি হলো আইনি ভিত্তি প্রণয়নের জন্য একটি প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার। রেফারেন্স আছে, ১৯৭০, ১৯৭৭, ১৯৯১ সালে এমন অর্ডার বা প্রোক্লেমেশন হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো গণভোট। যদি রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে না পারে, তাহলে জনগণের রায়ে আমরা যেতে পারি।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংসদের দুটি নির্বাচন কিছুটা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করেছে। নির্বাচনের পরিবেশ এবং ফলাফল ঘোষণা নিয়ে প্রভাব বিস্তারের যেসব আলামত আমরা পেয়েছি, তা নেতিবাচক সংকেত হতে পারে। এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না, সে আশঙ্কা থেকেই আমরা চাই, জাতীয় নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রশাসনের অধীনে হয়।’

আরও পড়ুন

জাতীয় সনদ তৈরির আলোচনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আপনি এই মাস পুরাটাই বাড়াতে চান, সম্মতি দেন, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সময় বাড়িয়ে যদি আমরা একমতে পৌঁছতে পারি, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাব।’

সরকার ঘোষিত চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি হতে পারে যদি তা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়। তিনি চলমান আলোচনার ফলাফল হিসেবে একটি জাতীয় দলিল ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ হোক আগামীর রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি যেটা ছিল এক নম্বরে সংস্কার করা। বিগত দিনে রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে যে ধরনের পাক পঙ্কিলতা, ত্রুটি, বিচ্যুতি, ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা তৈরি হয়েছিল — এটা দূরীভূত করে বাংলাদেশকে একটি নতুন পথে নিয়ে যাবে।’

‘সরকার জনগণের কাছে যে তিনটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ছিল—সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।’

ঐকমত্য কমিশনের দিকে এখন জাতির দৃষ্টি উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘এই জাতীয় সনদকে একটি সুন্দর আইনি ভিত্তির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত করতে পারলেই জাতীয় নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য। বিশ্ব তখন বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে দেখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সনদ হবে আমাদের রাষ্ট্রীয় দলিল। এই দলিলের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশে সুশাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর