হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিসের পরও জয়ের পথে ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু ৮৯তম মিনিটে ফ্যাবিও সিলভার গোলে সমতায় ফেরে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। শনিবার উত্তেজনাপূর্ণ বুন্দেসলিগার ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন কেইন। দ্বিতীয়ার্ধে তার নেওয়া পেনাল্টি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তখন ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন।
এর কিছুক্ষণ পর সেরু গিরাসির গোলে সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড। পরে কেইনের সহায়তায় দাইয়ো উপামেকানো গোল করলে আবারও এগিয়ে যায় বায়ার্ন। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় কনস্তান্তিনোস কারেতসাসের সঙ্গে সমন্বিত আক্রমণ থেকে গোল করে ডর্টমুন্ডকে সমতা এনে দেন সিলভা।
স্কাই জার্মানিকে ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ বলেন, ‘মিউনিখে এসে দুইবার পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরা সহজ নয়। আজ আমরা যথার্থভাবেই একটি পয়েন্ট অর্জন করেছি।’
নিজেদের ওপর বিশ্বাস কখনো হারাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা কখনো বন্ধ করিনি।’
এই ড্রয়ের পর বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকায় বায়ার্ন ও ডর্টমুন্ড সমান অবস্থানে রয়েছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। দুই দলের মধ্যকার সর্বশেষ ১৮টি ‘ক্লাসিকার’ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পায়নি বায়ার্ন।
ড্রয়ের পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগে চোটের সমস্যা নিয়েও উদ্বিগ্ন বায়ার্ন। ভাইরাস থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় দলের সঙ্গে নেই কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। এর মধ্যে মঙ্গলবার অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলতে যাওয়ার আগে আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
শনিবারের ম্যাচে ইসমায়েল সাইবারি, সার্জে নাব্রি ও মাইকেল অলিসেকে বদলি করে তুলে নিতে হয়। আগে থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে জামাল মুসিয়ালা ও লুইস দিয়াজ।
বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল বলেন, এই ড্রয়ের মূল্য বেশ চড়া হতে পারে। সাইবারি ও নাব্রির চোটকে তিনি ‘কিছুটা গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেন।
বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনটি ম্যাচে অনুপস্থিত থেকে ফিরেছেন বায়ার্ন অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ।
ম্যাচ শুরুর আগে বায়ার্ন সমর্থকদের সামনে প্রথমবারের মতো কেইনের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদর্শন করা হয়।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পোস্টের কাছ থেকে গোল করে জোবে বেলিংহ্যাম ডর্টমুন্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এরপরই ভুলের খেসারত দেয় ডর্টমুন্ড। ফেলিক্স এনমেচারের দুর্বল পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন কনরাড লাইমার। তার গোলেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন।
বিরতির পর আরও ভালো খেলতে থাকে বায়ার্ন। এনমেচারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইনের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এর কিছুক্ষণ পর কেইনের একটি পাস আটকে দেন ডর্টমুন্ড অধিনায়ক নিকো শ্লটারবেক। দ্রুত বল নিয়ে এগিয়ে তিনি কার্নি চুকউয়েমেকাকে পাস দেন। তার বাড়ানো বলে কাছ থেকে গোল করেন গিরাসি।
পরে উপামেকানোর গোলে মনে হচ্ছিল, পেনাল্টি মিসের ভুল শুধরে নিয়েছেন কেইন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিলভার গোলে সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড।
ফুলক্রুগের রেকর্ডে ভাগ
ওয়েস্ট হ্যাম থেকে এক মৌসুমের জন্য ধারে ফিরে আসার পর গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ওয়ার্ডার ব্রেমেনের স্ট্রাইকার নিকলাস ফুলক্রুগ। হফেনহাইমের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরেন দিনচিও ব্রেমেনের হয়ে গোল করেন।
তবে আলোচনায় আবারও ৩৩ বছর বয়সী ফুলক্রুগ। টানা সপ্তম বুন্দেসলিগা ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে গোল করে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে রুডি ফোলারের গড়া ক্লাব রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।
ফুলক্রুগ বলেন, ‘রেকর্ড ভাঙার জন্য আমি এসব গোল করি না।’ তবে রেকর্ডটির অংশ হতে পারাকে তিনি ‘ভালো লাগার বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই দলটির সঙ্গে খেলতে পারা অসাধারণ আনন্দের।’
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ব্রেমেনের হয়ে ১০ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন ফুলক্রুগ। এর আগে ওয়েস্ট হ্যামে ১৮ মাসে মাত্র তিনটি গোল করেছিলেন তিনি। ছয় মাসের ধারে এসি মিলানের হয়ে করেছিলেন একটি গোল।
অ্যাওয়ে ম্যাচে লিপজিগের প্রথম জয়
নবাগত শালকের মাঠে ২-০ গোলে জিতে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পেয়েছে আরবি লিপজিগ। ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা। খেলা শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে রোমুলো দ্বিতীয় গোলটি করেন।
বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির আতিথ্য নেবে লিপজিগ। ঘরের মাঠে বুন্দেসলিগার চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল তারা। প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল দিয়ে একটিও হজম করেনি দলটি। তবে এর আগে মৌসুমের তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচেই হেরেছিল তারা।
এই জয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে লিপজিগ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রাইবুর্গ। পিছিয়ে পড়েও অগসবার্গের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে দলটি।
এরমেদিন দেমিরোভিচের জোড়া গোলে ছন্দে থাকা বায়ার লেভারকুসেনকে তাদের মাঠে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে স্টুটগার্ট। দলের হয়ে বাকি গোল দুটি করেন জেমি লেভেলিং ও বিলাল এল খানুস। এর আগে নিজেদের সর্বশেষ আট ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছিল দলটি।


