রাজধানী ঢাকার বনানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে উদ্ধার হওয়া মুখে স্কচটেপ মোড়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম ইসমাইল হোসেন (৫০), বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর পরিবারের কাছে তার মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, তার সঙ্গে থাকা জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মর্গে ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. হাসান জানান, বর্তমানে তারা গাজিপুরের কাশিমপুর করলাপাড়া এলাকায় থাকেন। ইসমাইল ওই এলাকায় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করতেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। হাই প্রেশারসহ নানা শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি দাড়িয়ে থাকতে পারতেন না।
হাসান বলেন, ‘আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। সামনে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হবে। এ ছাড়া আমাদের অনেক টাকা ঋন ছিল। এজন্য গত চার মাস আগে বাবা আমাদেরকে গাজীপুর রেখে একা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন জমি বিক্রি করতে। বসতভিটা থেকে ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। সেই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। এরপর বাড়িতে ঘর দিয়েছেন। বাকি পাঁচ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন গত বৃহস্পতিবার রাতে।’
বৃহস্পতিবার রাতেই পরিবারের সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের শেষ কথা হয়েছিল জানিয়ে হাসান বলেন, ‘তখন তিনি বলেছিলেন, রাত ৩টার গাড়িতে চড়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় রওনা দিবেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আশুলিয়ার জিরানি বাসস্ট্যান্ডে বাবাকে আনতে যাই। তবে সেখানে গিয়ে বাবাকে বারবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাই এবং বাসায় ফিরে যাই।’
পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে তারা খবর পান, তার বাবার মরদেহ পাওয়া গিয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপরে।
নিহতের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, ‘যেহেতু তিনি (ইসমাইল হোসেন) জামালপুর থেকে গাজীপুর আসবেন, তাহলে তার ঢাকাতে আসার কোনো কারণ নেই। আমাদের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা কোনো চক্র তার সঙ্গে টাকা থাকার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অপহরণ করেন। এরপর হত্যা করে টাকা ছিনিয়ে নেয় আর মরদেহ ফেলে যাওয়ার নিরাপদ জায়গা হিসেবেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে বেছে নেন। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।’
এর আগে, শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের উপর থেকে মুখে স্কস্টেপ পেচানো ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে কোনো একটি গাড়ি থেকে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


