ঢাকা টেস্টের আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রেখেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নামতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে আট উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ক্যারিবিয়ানদের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি জানিয়েছেন, সিলেটে দলের মধ্যে আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা দেখতে চান তিনি। লক্ষ্য এবার প্রতিপক্ষের মাঠে সিরিজ জয় করে বছরটা সফলভাবে শেষ করা।
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এর আগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়টি এসেছে এই চক্রে তাদের তৃতীয় টেস্ট জয়। তবে দীর্ঘ দিন ধরে অ্যাওয়ে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ না পাওয়া ক্যারিবীয় শিবির এবার সিলেটে সেই খরা কাটাতে মুখিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের মাটিতে কাজটা যে সহজ হবে না, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছেন স্যামি। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে তাদেরই পুরোনো চেনা মুখ ফিল সিমন্স থাকায় চ্যালেঞ্জ যে দ্বিগুণ হবে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। ফিল সিমন্স প্রসঙ্গে স্যামি বলেন, ‘ফিলকে আমি যতটুকু চিনি, সে কাজটা মোটেও সহজ হতে দেবে না। ওরাও জিততে চাইবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওদের নিজস্ব কিছু লক্ষ্য আছে।’
তবে দলের একাগ্রতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, ‘ছেলেরাদের মধ্যে যে ক্ষুধা ও মানসিকতা দেখছি, তাতে সিলেটে যে চ্যালেঞ্জই আসুক, আমরা প্রস্তুত। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়, সেটা জেনেই আমরা অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ী বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
মিরপুরের পিচে ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলার সাবলীল পদ্ধতির পেছনে চেন্নাইয়ের বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পের বড় অবদান রয়েছে বলে জানান স্যামি। ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার ও হাই-পারফরম্যান্স কোচ শ্রীরাম কৃষ্ণমূর্তির অধীনে হওয়া ওই অনুশীলনের সুফল ঢাকাতেই মিলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে স্বস্তির ছিল আমাদের লড়াই করার মানসিকতা। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যাটারদের নিয়ে যে কাজ হয়েছে, সেটির প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠে। আমাদের স্পিনাররা ওদের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বল করেছে এবং আমাদের ব্যাটাররা ওদের চেয়ে ভালো স্পিন সামলেছে।’
এ সময় চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলা ব্র্যান্ডন কিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্যামি। পাশাপাশি দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হওয়া স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া অধিনায়ক রোস্টন চেইসের প্রশংসাও করেন তিনি।
কঠিন সময়েও চেইসের ধৈর্যশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘চেইসের নেতৃত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতে নানা চড়াই-উতরাই গেলেও সে কখনও আত্মবিশ্বাস হারায়নি। পুরো দল যে দায়িত্বশীলতা ও পরিপক্বতা দেখাচ্ছে, সেটাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার বড় প্রমাণ।’


