রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, প্রশাসনে গতি আনতে এবং জনমুখী কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি ও সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার আকার যে কোনো সময় আরও বড় হতে পারে। ঈদুল আজহার পরপরই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল আনা হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন মুখও যুক্ত হতে পারে।
তৃণমূল নেতাকর্মী, রাজনীতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের দাবি জানানো হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিন্তু এখনো মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের এবার সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে দলের জন্য অবদান রাখা নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
প্রশাসনে দক্ষতা বাড়াতে কয়েকজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। সরকারি প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মুখ্য সচিব এ বি এম সাত্তার ও নীলফামারী-২ আসনে পরাজিত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পূর্ণমন্ত্রী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন না দেওয়া হলে সেখানে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। যদি হাবিবুন নবী খানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে আব্দুস সালামকে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কিংবা কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত করা হতে পারে।
মুখ্য সচিব এবি এম সাত্তারকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হলে তার স্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস নবম ব্যাচের কর্মকর্তা শামসুল আলমকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব করা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনায় আছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে করা না হলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতির করার ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড ভাবছে।
তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তিনি মন্ত্রিসভায় থাকতে আগ্রহী নন।
শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন যদি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তাহলে তাকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
মীরে শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবিকেও অন্য মন্ত্রণালয় দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
নিয়মিত টকশো করেন এমন একজনকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের সামনের দিনগুলোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে। বিশেষ করে অর্থনীতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে এখনই কিছু বলতে চান না বিএনপি বা সরকারের কেউ।


