মাগুরায় শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামির আপিলের বিষয়ে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করবে মঙ্গলবার।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করে।
মামলাটিতে এখন বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি দণ্ডিত আসামির করা আপিলের রায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। গত ১১ আগস্ট হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি শুরু হয়।
মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে আছিয়া নির্যাতনের শিকার হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।
তিন দিন পর, ৮ মার্চ, হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন আছিয়ার মা। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছিয়ার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এর ১০ দিন পর, ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলার অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
ওই বছরের ২১ মে এই মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। ফৌজদারি কোনো মামলায় নিম্ন আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে, সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানির পর ১ জুলাই হাইকোর্ট আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং তার ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড স্থগিত করে।


