শুভ ৬৯তম জন্মদিন, ফাতু!

শুভ ৬৯তম জন্মদিন, ফাতু!
Advertisement
Advertisement

বার্লিন চিড়িয়াখানার এক কোণে নিজের রাজত্বে এখনো অটল বসে আছেন তিনি। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও চোখের চাউনিতে সেই একই আভিজাত্য। তিনি ফাতু, পৃথিবীর ইতিহাসে খাঁচায় বন্দি সবচেয়ে বয়স্ক গরিলা।

সোমবার জীবনের ৬৯টি বসন্ত পার করে সগৌরবে পদার্পণ করলেন সত্তরের কোঠায়। বিশেষ এই দিনে তার জন্য আয়োজনও ছিল রাজকীয়, তবে সেখানে আধুনিক কোনো বার্থডে কেকের দেখা মেলেনি। বার্ধক্যের কথা মাথায় রেখে চিনিমুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবারে সাজানো হয়েছিল তার জন্মদিনের থালা। চেরি টমেটো, বিট, লিক আর তাজা লেটুস পাতায় বেশ আয়েশ করেই সেরেছে নিজের ৬৯তম জন্মদিনের ভোজ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

ফাতুর এই দীর্ঘ জীবনের গল্পটা যেন কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা। ১৯৫৯ সালে যখন সে পশ্চিম বার্লিনে পা রাখে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। বন্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই ওয়েস্টার্ন লোল্যান্ড গরিলার সঠিক জন্ম তারিখটি আদতে কারো জানা নেই। তাই ১৩ এপ্রিল দিনটিকেই তার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

সাধারণত বন্য পরিবেশে গরিলাদের আয়ুষ্কাল ৩৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি হয় না। কিন্তু চিড়িয়াখানার নিরাপদ আশ্রয়ে ফাতু যেন সময়কে জয় করেছে। ২০২৪ সালে চিড়িয়াখানার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ইনগো নামক ফ্লেমিঙ্গোটির মৃত্যুর পর ফাতুই এখন বার্লিন চিড়িয়াখানার প্রবীণতম সদস্য।

আরও পড়ুন

ফাতুর শৈশব ছিল আফ্রিকার গহীন অরণ্যে। সেখান থেকে তার সভ্য জগতে আসার ইতিহাসটি বেশ নাটকীয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, একজন ফরাসি নাবিক তাকে আফ্রিকা থেকে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর মার্সেইয়ের এক পানশালায় বিল হিসেবে ফাতুকে দিয়ে দেন। সেই পানশালা থেকেই এক পশু ব্যবসায়ীর হাত ধরে ফাতুর ঠাঁই হয় বার্লিন চিড়িয়াখানায়। সেই ছোট্ট শিশুটি আজ জীবনের সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এখন বার্ধক্যের ছাপ তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে স্পষ্ট। মুখে আর দাঁত নেই, কানেও বেশ কম শোনে, আর সেই সাথে জেঁকে বসেছে বাতের ব্যথা। এই বয়সে এসে সে একটু নিরিবিলি থাকতেই পছন্দ করে। তাই অন্য গরিলাদের সঙ্গ এড়িয়ে নিজের জন্য বরাদ্দ আলাদা ঘেরেই তার সময় কাটে।

তবে শরীর দুর্বল হলেও মনের দিক থেকে ফাতু এখনো বেশ তেজস্বী। তার দেখাশোনাকারী ক্রিশ্চিয়ান অস্টের মতে, ফাতু তার রক্ষকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেও বেশ জেদি আর একরোখা। অবশ্য ৬৯ বছর বয়সে এসে এই সামান্য একগুঁয়েমি করার অধিকারটুকু তার নিশ্চয়ই আছে। শুভ জন্মদিন, বার্লিনের অঘোষিত রানি ফাতু।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর