‘একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার আইসিসিতে লবিংয়ে ব্যস্ত’

‘একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার আইসিসিতে লবিংয়ে ব্যস্ত’
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নানান কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ। অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কারচুপি ও সরকারি হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগও আছে বর্তমান বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের দিকে। সেসবের জেরে শেষ মুহুর্তে নির্বাচন থেকে সরেও যান অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী। সেসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। রোববার তদন্ত রিপোর্টও এনএসসিতে দাখিল করেছেন কমিটির সদস্যরা। তাই সম্ভাবনা জেগেছে বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার।

এর মধ্যেই রীতিমতো বোমা ফাটালেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোন ব্যবস্থা না নেয় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সাথে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ পুত্র জয় শাহের সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে নাজমুল হাসান পাপনকে অনুরোধ জানান।’

নিয়মানুযায়ী ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো নিয়ম নেই। কোনো প্রমাণ পেলে শক্ত পদক্ষেঅ নেয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ২০২৩ সালে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াতে শ্রীলংকা ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি, একইসাথে বঞ্চিত করেছিল আর্থিক রাজস্ব থেকে। যদিও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে আইসিসি।

সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসি যেন কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেয়, সেই ‘স্বনামধন্য’ ক্রিকেটার নানান জায়গায় ধরণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আসিফ। তিনি আরো লেখেন, ‘ এর আগেও বিসিবি নির্বাচনের সময় তাঁর ভিরাট কোহলির মাধ্যমে জয় শাহকে রিচ করার চেষ্টার বিষয়ে বলেছিলাম। অবৈধভাবে বোর্ড ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি থেকে সম্ভাব্য ফাইনান্সিয়াল ব্যান কিংবা অন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা যেন গ্রহণ না করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে জয় শাহকে অনুরোধ জানাতেই এসব লবিং। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নজির আছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এসবের সাথে জড়িত কিনা, এই প্রশ্নও তুলেছেন আসিফ। তিনি লেখেন, ‘আমি জাতীয়ভাবে গণভোট, জুলাই সনদ, অধ্যাদেশ বাতিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিসিবির ব্যাপারে কিছু বলবো না ভেবেছিলাম। কিন্তু, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আবারো পার্শ্ববর্তী দেশ এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের অন্তর্ভুক্তির পায়চারার খবর শুনে মনে হলো দেশবাসীর এসব জানা থাকা উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকার কি এসব বিষয়ে অবগত? নাকি সবাই মিলেই হচ্ছে সবকিছু।’

 যদিও আসিফ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সভাপতি করে আনাতেও তার হস্তক্ষেপ ছিল বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad