পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
জাতীয় প্রেসক্লাবে ইশরাক হোসেন। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন।

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র দেখানোর ঘটনায় সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

ইশরাক জানান, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের বিষয়ে প্রকৃত সত্য জানাতে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে চুরিও করতে যাই নাই, চাঁদাও চাইতে যাই নাই।’

‘আমার একটি ভালো উদ্দেশ্য মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারে দল বিব্রত হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি রাজি হয়েছেন’, যোগ করেন এই বিএনপি নেতা।

তিনি অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে কিছুটা সত্য ও কিছুটা অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এক শ্রেণি অপপ্রচার চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাক জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই অভিযানে যোগ দেওয়ার সময় তিনি অস্ত্র বহন করছিলেন।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার এবং দেশজুড়ে প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারে কাজ করবেন।

এদিকে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বক্তব্য দিতে শুরু করলে সেখানে অবস্থান নিয়ে ও স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১টার পর থেকেই তার কর্মী-সমর্থকেরা প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ইশরাক হোসেন সংবাদ সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন

ইশরাককে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

 

এ সময় তিনি কর্মী-সমর্থকদের হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তবে অনুরোধে সাড়া না দিয়ে তার কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে গোটা হল মুখর করে তোলেন।

এতে নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও পেশাগত কাজ চালিয়ে যেতে অসুবিধা তৈরি হয়। অনেক মিডিয়ার চিত্রগ্রাহক ও সাংবাদিকেরা কিছু সময়ের জন্য তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন।

আবার অনেকেই ইশরাক হোসেনের কর্মী সমর্থকদের উশৃঙ্খল আচরণে সংবাদ সম্মেলনের স্থান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন।

ইশরাককে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার কথা জানান ইশরাক নিজেই।

সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

রোববার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে পাঠান বলে রাতে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। এর পরপরই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই গুঞ্জনকে মিথ্যা দাবি করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।

ছবি: সংগৃহীত

 

এতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় নিজ সংসদীয় আসনে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অবশ্য রোববার আলাদা একটি বিজ্ঞপ্তিতে ইশরাক দাবি করেন, মাদকবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণেই তিনি অস্ত্র দেখিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানতে পারেন। মাদককারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে সেই আশঙ্কার বিষয়ে আগেই তাকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

রোববার প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad