মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮: এইচআরএসএস

মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮: এইচআরএসএস
Advertisement
Advertisement

মার্চ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৮ জন নিহত এবং ৯১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

শনিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি তাদের মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চে মোট ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার সংখ্যা কমলেও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৩৪৬টি ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছিলেন।

রাজনৈতিক সহিংসতার বড় অংশই দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ এবং সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির অন্তর্কোন্দলে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে, যেখানে ৪৫টি ঘটনায় অন্তত ৫০১ জন আহত এবং নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মব সহিংসতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চুরি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ২৫টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মার্চে ৩৪টি ঘটনায় ৫৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যান্য দিক তুলে ধরে বলা হয়, এ মাসে অন্তত ২৭৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে।

শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক। ১৭৬ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ জন মারা গেছে।

এ ছাড়া শ্রমিক নির্যাতনের ৭৭টি ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, কারাগারে মৃত্যু এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এইচআরএসএস নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, মব সন্ত্রাস, হেফাজতে মৃত্যু এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad