স্বজনপ্রীতি পরিহার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পাবেন।’
শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবকের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হবে। এই টিমের মাধ্যমে উপকারভোগীদের যথার্থতা যাচাই করে সম্পূর্ণ দলীয়প্রভাবমুক্ত থেকে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে।
জনগনের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সব অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহির পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক ভাবে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাটাকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাই। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব ব্যবস্থা এবং ইকো সিস্টেমের মধ্যে নতুন গণমাধ্যমের সঙ্গে আমরা এখনো যুক্ত হতে পারিনি।’
‘আমাদের তথ্য মন্ত্রনালয় যখন গড়ে উঠেছে, তখন তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না। আবার এখন যে ধরনের তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক গণমাধ্যমের যে প্রসার তৈরি হয়েছে এর সঙ্গে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার তাও এতোদিনে হয়ে উঠেনি। আমি দায়িত্ব নিয়েছি সরকারের নীতিনির্ধারণী সবার সাথে আলোচনা করে ধিরে ধিরে জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করব’, যোগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
ভুয়া তথ্য এবং অপতথ্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে যাতে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্যের শিকার না হতে হয়, এ থেকে তাদেরকে কিভাবে রক্ষা করা যায় সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’
পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র অর্জন করেছে সেটা নির্ভর করে সঠিক পরিসংখ্যানের উপর। পরিসংখ্যানের সঠিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের সংরক্ষণ এবং দ্রুত তথ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আধুনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডাটাবেস সিস্টেম। সঠিক ডাটাবেস সিস্টেম না থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’
বরিশালের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকীকরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বরিশাল দক্ষিণ বাংলার রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও এখানে উন্নত চিকিৎসার অভাব রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া কষ্টসাধ্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। এই সংকট নিরসনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।’
এর আগে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএ-এর চেক বিতরণ করেন। এ সময় বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে দুই কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।


