নির্বাচনের আগে নারী হয়রানির অভিযোগ, জাতিসংঘের উদ্বেগ

নির্বাচনের আগে নারী হয়রানির অভিযোগ, জাতিসংঘের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ (ইউএন)।

নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব হয়রানির কথা জানতে পেরেছে সংস্থাটি। এসব প্রতিবেদনে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের লক্ষ্য করে সহিংসতা, হয়রানি এবং ফেসবুকের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হুমকির ঘটনা উঠে এসেছে।

ভোটের আগের দিন বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘ বলেছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ জনগণের একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার সব নারী ও মেয়েশিশুর জন্য প্রযোজ্য। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় ব্যক্তি এবং যারা তুলনামূলক বেশি বাধা, বৈষম্য বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে আছেন, তারাও অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিনিয়ত নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানির প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ জানায়, নারী রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বেশিরভাগই সাইবার বুলিং, ডিপফেক, সমন্বিত অনলাইন হয়রানি এবং ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে নারী কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, এ ধরনের কনটেন্ট নারীদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিকভাবে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ফেসবুকে জাতিসংঘের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের অর্থবহ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বের পক্ষে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও তারা কাজ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারীসহ সব ভোটারকে ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে হবে। তারা যেন প্রার্থী ও ভোটার- উভয় ভূমিকায় নিরাপদে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য বলেও মনে করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা।

সেইসঙ্গে সমষ্টিগত দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক নেতা, দল এবং তাদের সমর্থকদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি মেনে চলারও অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ।

তারা আশা করেন, নির্বাচন চলাকালে প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর