আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশেপাশে বড় জায়গা খুঁজছে বিএনপি। সেদিন বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে তার ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে। তবে তারেক রহমান দেশে ফিরতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস নিয়েছেন কি না তা বিএনপির কোনো নেতা নিশ্চিত করতে পারেননি।
তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে আসতে পারেন তার একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি ও সরকার। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি। দেশে চলাফেরা করতে তারেক রহমানের জন্য আনা হয়েছে বুলেটপ্রুফ টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ‘হার্ড জিপ’।
এদিকে, ঢাকায় পা রাখার পর তারেক রহমানকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে অভ্যর্থনা কমিটি। এই কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে কোথায় সংবর্ধনা দেওয়া হবে সেই জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে শুধু রাজধানী ও এর আশেপাশের জেলা নয়-সারা দেশ থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের ঢাকায় জড়ো করতে চায় বিএনপি। এজন্য দলের পক্ষ থেকে রেলওয়ে বিভাগের কাছে সাতটি বিশেষ ট্রেন ভাড়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেনগুলোতে বগি বাড়ানোরও অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
ঢাকায় সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে গিয়ে ওঠবেন গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গুলশানের এই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেয় তখনকার রাষ্ট্রপতি সাত্তারের বিএনপি সরকার। মায়ের বর্তমান বাসস্থান ৭৯ রোডের এক নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা’র কাছেই এই বাড়িটি এরই মধ্যে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। এখন চলছে চূড়ান্ত সাজসজ্জার কাজ। চারিদিকে লাগানো হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, স্থাপন করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বাড়ির চারিদিকে বসছে বাড়তি পুলিশ বক্স।
তবে ২৫ তারিখের মধ্যে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ শেষ না হলে মায়ের বাসস্থান ‘ফিরোজা’তেই ওঠবেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগ আমলে ক্যান্টমেন্টের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় ওঠেন খালেদা জিয়া। বাড়িটির মালিক বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে লন্ডন নিয়ে যেতে গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এরপর থেকে তিনি শাশুড়ির দেখাশোনা করছেন।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারেক রহমান লন্ডন সময় ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিজি২০২ ফ্লাইটে বাংলাদেশ সময় ২৫ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার মাটিতে পা রাখতে পারেন তারেক রহমান। একই ফ্লাইটে তার সঙ্গে বিএনপির অন্তত ৫০ জন নেতা-কর্মী থাকবেন। জানা গেছে, ওই ফ্লাইটের টিকিট কাটার জন্য দলের অনেক নেতাকর্মী চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান। তখন থেকে তিনি লন্ডনেই নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।


