খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতি সহায়তা আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিরূপমানে থাকা সব খেলাপি ঋণ এখন বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিল করা যাবে।
এই নতুন সুযোগ দেওয়ার কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং তাদের আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এই নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড রাখা যাবে। অর্থাৎ এই দুই বছরে কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না; তবে সুদ পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যেসব ঋণ খেলাপি হয়েছে সবাই এই নতুন সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে এই আবেদন নিজ নিজ ব্যাংকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই করতে হবে।
এরপর ব্যাংকের পর্ষদ নীতি সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সময়সীমা বাড়ানোই এবারের বড় পরিবর্তন।
বিআরপিডির আরেক সার্কুলারে যে সময়সীমা ঠিক ছিল, তার সঙ্গে এখন অতিরিক্ত আরও দুই বছর যোগ হবে। ফলে আগে যেসব মেয়াদি ঋণ ৫ থেকে ৮ বছর মেয়াদে পুনর্গঠনের সুযোগ পেত, এখন সেগুলো আরও দীর্ঘ সময়ে পরিশোধ করা যাবে।
এমনকি আগে পুনঃতফসিল করা ঋণও নতুন করে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা পাবে।
নতুন নির্দেশনায় এক্সিট সুবিধাতেও শিথিলতা রাখা হয়েছে। তবে ডাউনপেমেন্ট নেওয়ার নিয়ম আগের মতোই থাকছে, যদিও এক্সিট সুবিধার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো যাবে।
এর মধ্যে মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ শোধ করতে হবে এবং বছরে মোট পরিশোধ অবশ্যই ঋণের কমপক্ষে ২০ শতাংশ হতে হবে। পুরো সময় ঋণগুলোকে ‘এক্সিট (এসএমএ)’ হিসেবেই দেখাতে হবে এবং ব্যাংককে বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রকৃত আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগে রাখা স্পেসিফিক প্রভিশন আয় হিসেবে দেখানো যাবে না।
তবে কোনো কিস্তি নিয়ে ছাড় দিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনটি মাসিক বা একটি ত্রৈমাসিক কিস্তি বাকি পড়লে ঋণ আবারও শ্রেণিকরণ করতে হবে। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানের নামে নতুন ঋণ অনুমোদন করা যাবে না।


