‘আশঙ্কা’ থাকলেও ‘খোলা’ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়

‘আশঙ্কা’ থাকলেও ‘খোলা’ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়
গাজীপুরে ভিআইপি বাসে আগুন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর সড়কে অতর্কিত ককটেল বিস্ফোরণ এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের কারণে ‘নিরাপত্তা’র আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত এবং অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক ক্লাস-কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিলেও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে।

এ বিষয়ে বুধবার বিকালে রাজধানীর শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলবে।’

এর আগে মঙ্গলবার একটি নোটিশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেখানে বলা হয়েছিল, ১২ এবং ১৩ নভেম্বর ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। সেই নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি এলাকায় শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপরই সতর্ক অবস্থান নেয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। মঙ্গলবার সতর্কতা জারি করে নোটিশ দেয় তারা। এরপরই নড়েচড়ে বসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে বুধবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ইউজিসি।

এর আগে, মঙ্গলবার ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে ১৩ নভেম্বরের স্বাভাবিক ক্লাস-কার্যক্রম বাতিল এবং শুধু অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। ইউজিসির আহ্বানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে তারা।

এ বিষয়ে এনএসইউ রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমীন টাইমসকে বলেন, ইউজিসি থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদল করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৩ নভেম্বর ক্লাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম চলবে। শিক্ষার্থীদের মেইলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

‘নিরাপত্তাহীন’তার আশঙ্কায় স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব)।

তবে পরবর্তীতে সংশোধিত নোটিশে ইউল্যাব জানায়, রাজধানীতে সম্প্রতি বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন সার্ভিস স্থগিত থাকবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত পরিহার করার আহ্বান জানানো হলো।

শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

তিনি টাইমসকে বলেন, কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সে ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে তাদের সঙ্গে ইউজিসির আলোচনা চলছে। যাতে কোনো ধরনের যোগাযোগ কমিউনিকেশন গ্যাপ না হয় সেই অনুসারে নির্দেশনা দিচ্ছি।

করোনা মহামারির সময় ৩০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিধান জারি করা হয়েছিল। সেই নিয়মটি পরবর্তীতে আর বাতিল বা স্থগিত করা হয়নি। সেই আলোকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হঠাৎ করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ বা ‘নিয়ম বহির্ভূত’ বলার যাবে না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষাবিদ।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে কোনো বিশেষ কারণ বা জরুরি পরিস্থির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এটা করতে পারে। কিন্তু অতি জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এটি কাম্য নয়। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
আলীম হায়দার
আলীম হায়দার

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর