চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত শিক্ষক আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শিক্ষকরা সচিবালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এরপর জল কামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর বলেন, ‘দুপরের দিকে শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের পাশের সচিবালয়ের ব্যারিগেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা ১৭ দিন থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন তারা।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো-অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করতে হবে। সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নিবন্ধনের ওপর ২০০৮ সালের স্থগিতাদেশ বাতিল করা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা করা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা।
প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করলেই গেজেট
শিক্ষকদের দাবিগুলো পূরণে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। সব কিছু যাচাই-বাছাই করে ১ হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করলেই গেজেট চলে আসবে বলে জানিয়েছেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাদ্রাসা অনুবিভাগ) এস এম মাসুদুল হক।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা উপদেষ্টা এবং সচিব স্বাক্ষর করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এখন প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করলেই গেজেট চলে আসবে।’
মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি পরের ধাপ। আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত হতে হবে। সেজন্য ইতোমধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ কার্যকর হওয়ার পর বোর্ডের শর্তপূরণ সাপেক্ষে এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ করার পরিকল্পনা আছে।’
এ ছাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলার বিষয়টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আছে বলেও জানান মাসুদুল হক।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুন মাসে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আলোকে ২০০৮ সালের মাদ্রাসা নিবন্ধনের ওপর স্থগিতাদেশ আর কার্যকর থাকছে না। এখন নতুন মাদ্রাসার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। বোর্ড যদি দেখে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামোসহ সব শর্ত ঠিক আছে, তাহলে নতুন মাদ্রাসার নিবন্ধন দেওয়া হবে। এ ছাড়া শর্তপূরণ সাপেক্ষে আগের কোডবিহীন মাদ্রাসাগুলোকে বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


