ইবি শিক্ষার্থী হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

ইবি শিক্ষার্থী হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যায় দ্রুত বিচার দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদলের ইবি শাখা। এসময় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের নিচ তলায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। ১৭৫ একরের এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যেখানেই যাক, তারা যেন নিরাপদ থাকে এটাই আমাদের দাবি। হলের ভেতরে শিক্ষার্থীরা কখন আসবে-যাবে বা কী পোশাক পরবে, তা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভয়ভীতি দেখাতে পারে না।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: টাইমস

ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এ সময়ের মধ্যে যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ভদ্রতা দেখাচ্ছি মানে এই না যে, ছাত্রদল দুর্বল।’

আরও পড়ুন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অলিউল্লাহসহ দুইজনকে গুম করা হয়েছে। তারা যে সংগঠনেরই হোক না কেন, প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো খোঁজ নেয়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসি রুমে বসে নিশ্চিন্তে সময় কাটাচ্ছেন, অথচ ক্যাম্পাসে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন এখন ফ্যাসিবাদে আক্রান্ত, অথর্ব অবস্থার দিকে যাচ্ছে’, বলেন তিনি।

শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ফ্যাসিস্ট প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে শিক্ষক নিয়োগে ফ্যাসিবাদী প্রভাব স্পষ্ট। ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগরসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও বিতর্কিত ও চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের বোর্ডে রাখা হচ্ছে। এমনকি রশিদ আশকারীর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকেও বোর্ড সদস্য করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম আহবায়ক আবু দাউদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীরা।

নিহত সাজিদ আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিবার ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, সাজিদকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad