মৌলভীবাজারে চা-শ্রমিক সর্দার হত্যা, মূল আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারে চা-শ্রমিক সর্দার হত্যা, মূল আসামি গ্রেপ্তার
কুলাউড়ায় চা বাগানের শ্রমিক সর্দার হত্যাকান্ডের মূলহোতা গোলাপ সতনামী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ক্লিবডন চা বাগানের শ্রমিক সর্দার রামবচন গোয়ালা (৪০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গোলাপ সতনামীকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোহাম্মদ আজমল হোসেন। এর আগে, শুক্রবার ভোরে কামিনীগঞ্জ বাজার থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রামবচন বাড়ি থেকে বের হন। পরে  তিনি আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর সকালে জুড়ীর কাপনাপাহাড় চা-বাগান এলাকায় রক্তের দাগ ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে বাবুনালা ছড়া থেকে রামবচনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Related News

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মসদ আজমল হোসেনের তত্ত্বাবধানে ওসি মোহাম্মদ মুরশেদুল আলম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদ এবং তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার ভোরে গোলাপকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালের হাতল (লাঠি), ভুক্তভোগীর মোবাইল, জুতা, লাঠি বাঁধার গামছার টুকরা এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গোলাপ জানান, ২০১৭ সালে রামবচনের কারণে চাকরি হারিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রামবচনকে মদপানের প্রস্তাব দিয়ে মোটরসাইকেলে করে রত্না চা বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দন নামে আরেকজনসহ মদ পান করেন তারা। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি হলে গোলাপ ক্ষিপ্ত হয়ে ফেরার পথে বাবুনালা ছড়ার কাছে মোটরসাইকেল থামিয়ে কোদালের হাতল দিয়ে রামবচনের মাথায় একাধিক আঘাত করেন গোপাল। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এরপর গোলাপ সোনারূপা চা বাগানে গিয়ে এক ব্যক্তিকে বিষয়টি জানায়। পরে দুজন মিলে মরদেহ বাবুনালা ছড়ায় ফেলে গাছপালা ও মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর