ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের ইলাতের রামোন বিমানবন্দরে ইয়েমেন থেকে ড্রোন হামলা করা হয়েছে। এ হামলায় দুইজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। তবে, ড্রোন হামলার আগে কোনো সাইরেন বাজেনি।
রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
আইডিএফ জানিয়েছে, ড্রোনটি শনাক্ত করা হলেও তা শত্রু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করে। ঘটনার পর প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য রামোন বিমানবন্দরের দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমাবন্দরের টার্মিনাল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে। জানালা ভেঙে গেছে এবং মেঝে জুড়ে কাচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে, কতটা ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি।
সেনাবাহিনীর জানিয়েছে, ডিটেকশন সিস্টেমে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না, তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত চলছে। ওইদিন আরও কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়।
হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দখলকৃত ফিলিস্তিনের ভেতরের কোনো বিমানবন্দর আর নিরাপদ নয়। ভবিষ্যতেও এ হামলা চলবে।
ইসরায়েল ও হুথিদের মধ্যে ইরান-সমর্থিত দীর্ঘ পাল্লার সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। গত মে মাসেও হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। ওই হামলায় চারজন আহত হন। এরপর বেশ কয়েকটি বিমানসংস্থা ইসরায়েলে বিমান পরিষেবা স্থগিত রেখেছিল।
পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলও। ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছিল ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেল আবিবে।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তখন থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এর জবাবে ইয়েমেনেও একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।


