মৌলভীবাজারে “সামার রানে” প্রাণের উচ্ছ্বাস

মৌলভীবাজারে “সামার রানে” প্রাণের উচ্ছ্বাস
মৌলভীবাজারে সামার রান প্রতিযোগিতায় দুইশর বেশি দৌঁড়প্রেমীর অংশগ্রহণ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

তখনও ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। আকাশে লালচে আভা, বাতাস হালকা ঠাণ্ডা, শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এমন সময় মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে জমতে শুরু করেন দৌঁড়প্রেমীরা। কারও গায়ে রঙিন জার্সি, কারও হাতে পানির বোতল, কেউ আবার কানে  হেডফোন লাগিয়ে দৌঁড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুহূর্তেই ভোরের নিস্তব্ধ শহরে ভরে ওঠে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশে।

মৌলভীবাজার পৌরসভা থেকে দৌঁড় শুরু হয়ে কালেঙ্গাবাজার পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে পুনরায় পৌরসভায় গিয়ে শেষ হয়েছে।

আয়োজক পাওয়ার পালস এরিনা ও মৌলভীবাজার অ্যাথলেটিক অ্যান্ড কাবাডি একাডেমি জানায়, সমাজে খেলাধুলার চর্চা ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তাদের এই উদ্যোগ। তাদের ভাষ্যমতে, ‘একটি শহরকে প্রাণবন্ত করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। “সামার রান” সেই ধারাবাহিকতার একটি প্রেরণা।’

সামার রান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় উচ্ছসিত দৌঁড়প্রেমীরা। ছবি: টাইমস

বাঁশির শব্দের সাথে সাথেই শুরু হয় ছুটে চলা। দুইশর বেশি দৌঁড়প্রেমী একসাথে এগিয়ে যাওয়া যেন চোখের সামনে এক বিশাল শোভাযাত্রা। শহরের অলিগলি পেরিয়ে যখন তারা কালেঙ্গার সবুজে ঘেরা পথে পৌঁছায়, তখন চারপাশের দৃশ্যও যেন দৌঁড়ের সাথী হয়ে ওঠে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো পড়ছে দৌঁড়বিদদের গায়ে। তাদের কপালের ঘাম ঝলমল করে উঠছে আলোয়।

পথের দুই পাশে দাঁড়ানো দর্শকরা হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। ছোট ছোট বাচ্চারা উচ্ছ্বাসে দৌঁড়বিদদের দিকে হাত নেড়ে চিৎকার করছিল, ‘দৌঁড়াও…দৌঁড়াও!’ এতে দৌঁড়বিদদের চোখে-মুখে ক্লান্তি থাকলেও পায়ে যেন নতুন জোর ফিরে পান।

আরও পড়ুন

গন্তব্যে পৌঁছেই অনেকেই সেলফি তুলে রাখেন স্মৃতির খাতায়। কেউ হাঁপাতে হাঁপাতে মাটিতে বসে পড়েন, কেউ আবার হাসিমুখে সহযাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের চোখে ভোরের সেই দৌঁড় ছিল শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং স্বাস্থ্য, আনন্দ আর একাত্মতার উৎসব।

দৌঁড়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী মুনতাহা বলেন, ‘আমি এবারই প্রথম দৌঁড়ে অংশগ্রহণ করেছি। অনেক খুশি লাগছে।’

রাজশাহী থেকে আগত শিক্ষিকা মরিয়ম হাসনা বলেন, ‘মৌলভীবাজারে দৌঁড়ে অংশ নিতে পারায় ভালো লাগছে। আমি প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ম্যরাথনে অংশ নেই।’

ষাটোর্ধ্ব ঋতু বণিক বলেন, ‘আমার এই বয়সে ঘরে বসে থাকলে হবে না। তাই চেষ্টা করি সব সময় হাঁটাচলা করার। তবে দৌঁড়ে অংশ নিতে পারায় ভালো লাগছে।’

শিক্ষক মুজিবুর রহমান ও অসিত কুমার দাশ জানান, শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত দৌঁড়াতে হবে। তাই দৌঁড়ের বিকল্প নেই। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad