ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বালি চুরির সময় বাধা দেওয়ায় রওশন আরা (৪৫) নামে এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় লাঠি ও হাতুড়ি ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছেন আহত ওই শিক্ষিকা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এতেম শেখ, তার ছেলে লিটন শেখ ও লিটনের দুই ছেলে কাউছার ও অপু।
শিক্ষিকা রওশন আরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের একটি প্রকল্পে বালি ফেলে ভরাট করা হয়। কিছুদিন ধরেই সেখান থেকে বালি চুরির ঘটনা ঘটছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে বালি পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত এতেম শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা কোদাল দিয়ে কেটে মাঠের বালি তাদের বাড়ির আঙিনায় নিচ্ছেন। তিনি বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এরপর বাঁশের লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।
চিৎকার শুনে অন্যান্য শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
শিক্ষিকা রওশন আরা বলেন, ‘শুধু শারীরিক নয়, আমি মানসিকভাবেও প্রচণ্ডভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষিকাকে কর্মঘণ্টায় এভাবে মারধর করা লজ্জাজনক ও অন্যায়। দ্রুত বিচার হওয়া দরকার।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শিক্ষিকাকে আইনি পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস বলেন, ‘আমরা আহত শিক্ষিকাকে আইনি পথে এগোতে বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এখনো পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ।


