দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
২০০৩ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র সাফ জয়ের পর আর শিরোপার স্বাদ পায়নি লাল-সবুজের দল। তবে এবার ঘরের মাঠের সুবিধা এবং শক্তিশালী স্কোয়াডের সুবাদে শিরোপা পুনরুদ্ধারের দারুণ এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঘরের মাঠে খেলার পরিচিত পরিবেশ, কন্ডিশন এবং লাখো দর্শকের অকুণ্ঠ সমর্থন দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে হামজা চৌধুরী ও শামিত সোমের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় দলের শক্তি ও সামর্থ্য বহুলাংশে বাড়িয়েছে।
তবে শুধু স্বাগতিক হওয়া বা কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল থাকলেই যে সাফ জয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমেলি।
পাঁচটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, মাঠের পারফরম্যান্সের ওপরই আসল সাফল্য নির্ভর করে। পুরো দেশের প্রত্যাশার চাপ সামলে মাঠে সেরা ফুটবল উপহার দেওয়াটাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা না কাটানোর পেছনে ঘরোয়া ফুটবলের নিম্নমানের লিগ, তৃণমূল পর্যায়ে যথাযথ অগ্রগতির অভাব এবং মানসম্পন্ন স্থানীয় গোলদাতার সংকটকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সাবেক এই ফুটবলার।
সব মিলিয়ে, দেশের মাটিতে সাফ ট্রফি ঘরে তোলার জন্য দলীয় ঐক্য, চাপের মুখে মানসিক স্থিরতা এবং মাঠের সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই কেবল দুই দশকের খরা ঘুচাতে পারে বাংলাদেশ।


