জিল বাংলা চিনিকলে পড়ে আছে ৪৮ কোটি টাকার চিনি

জিল বাংলা চিনিকলে পড়ে আছে ৪৮ কোটি টাকার চিনি
জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

উৎপাদনের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিক্রি হচ্ছে না জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের বিপুল পরিমাণ চিনি। খোলাবাজারের তুলনায় মিলের চিনির দাম বেশি হওয়ায় কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ডিলাররা।

বর্তমানে মিলের গুদামে ৪৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চিনি পড়ে আছে। সঙ্গে অবিক্রীত রয়েছে ২ কোটি টাকার চিটাগুড়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করতে না পারায় আটকে আছে বিপুল অর্থ। এতে আখচাষিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে ৮৪ হাজার ৯৪১ টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৩৬৮ টন চিনি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ টন। এখনো অবিক্রীত রয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টন চিনি। এসব চিনির বাজারমূল্য ৪৫ কোটি ২২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ৯০০ টন চিটাগুড় বিক্রি হয়নি। এর মূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পণ্য অবিক্রীত রয়েছে।

ডিলারদের ভাষ্য, মিল থেকে প্রতি কেজি চিনি কিনতে হচ্ছে ১২৫ টাকায়। অথচ খোলাবাজারে একই চিনি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। ফলে মিল থেকে চিনি কিনে বাজারে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। এ কারণে বরাদ্দ পেয়েও চিনি তুলছেন না তারা।

জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। ছবি: টাইমস

দেওয়ানগঞ্জের কাদের এন্টারপ্রাইজের ডিলার আব্দুল কাদের বলেন, ‘সরকারি চিনির রেট ১২৫ টাকা কেজি। মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। ফলে আমরা চিনি তুলছি না। চিনি তুললে লোকসান হয়।’

আরও পড়ুন

সাত্তার অ্যান্ড সন্সের ডিলার আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছয়-সাতটি এলোটমেন্টে প্রতিবার ১২ হাজার টাকা করে লোকসান হলে বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়। তাই লোকসান এড়াতে বরাদ্দ রিনিউ করার সময় তা সমন্বয় করি। চিনির দাম কমলে বিক্রি ভালো হতে পারে। এখন অন্য মিলের চিনি বিক্রি করছি।’

চিনি বিক্রি না হওয়ায় আগামী মৌসুমের আখ সরবরাহ ও পাওনা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, চিনি বিক্রি না হলে মিল কর্তৃপক্ষ সময়মতো আখের দাম পরিশোধ করতে পারবে না।

মিল এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সুগার মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে এলাকার কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় আছেন। চিনি বিক্রি না হলে মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের পাওনা পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’

কৃষক শান্ত বলেন, ‘আখ চাষে অনেক খরচ। আমরা কৃষকেরা কী খাব? মিলের চিনি বিক্রি না হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের পুঁজি দেবে কি না, তা নিয়েও চিন্তায় আছি।’

তবে অবিক্রীত চিনির কারণে নতুন মৌসুমের উৎপাদন ও সংরক্ষণে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মাড়াই মৌসুম শুরুর আগেই ইনশাআল্লাহ আমাদের বেশির ভাগ চিনি বিক্রি হয়ে যাবে। গোডাউনে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। নতুন চিনি সংরক্ষণে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।’

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জিল বাংলা সুগার মিল এ পর্যন্ত ৬৭টি মাড়াই মৌসুম সম্পন্ন করেছে। আগামী ২৭ নভেম্বর ৫ হাজার ৩৯০ টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মিলটির ৬৮তম মাড়াই মৌসুম শুরুর কথা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad