যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দলটি। নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতি ভোটারদের ব্যাপক অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে।
সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনই পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত ৩৯টি আসনে জয় পেয়েছে। আরও দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা এবং ছয়টি আসনে এগিয়ে রিপাবলিকানরা। একটি আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ছয়টি আসন এবং প্রতিনিধি পরিষদের এক ডজনের বেশি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে কয়েক দশক পর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস, ওহাইওতে অ্যামি অ্যাক্টন, আইওয়ায় রড স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের জয়ের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা চারটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদও ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের কাছে এমনভাবে প্রচার চালিয়েছিলেন, যেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনিও সরাসরি প্রার্থী।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটার জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসের আরও সক্রিয় ভূমিকা চান তারা।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির দায় নিজের কাঁধে নিতে চাননি ট্রাম্প। বুধবার ভোরে প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে ভালো করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয়ের জন্য তাদের নিজেদেরই দায়ী করেন তিনি।


