বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘বান্ধবী’ দিশাকে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেয়।
এদিন বিকাল ৩টা ৫০মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন।
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, হত্যার কারণ ও কারা জড়িত সেই সত্য খুঁজে বের করতে আসামি দিশার রিমান্ড প্রয়োজন বলে শুনানিতে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
এ সময় দিশাকে নিজের নাম ও তার বাবার নাম জিজ্ঞেস করেন বিচারক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দিশার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজের উপর ভিত্তি করে আমার মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি একজন ছাত্রী। আগের আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তার কোনো তথ্য আমরা পাইনি।’
দিশা বলেন, ‘ভুক্তভোগী তাহসিফ আমাকে রাত ১২ টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে দেন, আমি তার পরে আর কিছু জানি না।’
এর আগে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করেন টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে যান দিশা। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিলেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে যাতায়াতের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং ঘটনার স্থান নির্ধারণে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২৩) এরইমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান সন্দেহভাজন আসামি দীপ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় এবং সঙ্গে থাকা হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাহসিফ সাউরির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ সাউরিকে দাফন করা হয়।


