২০৩০ পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

২০৩০ পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

পুঁজিবাজারে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার (ক্যাপিটাল গেইন) ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, বাজারে লেনদেন ও তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সংগঠনটি এ প্রস্তাব দিয়েছে।

গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে ডিবিএ।

ক্যাপিটাল গেইন বলতে বোঝায় শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত মুনাফা। যেমন, একজন বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির শেয়ার ১০০ টাকা দরে কিনে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করলে প্রতি শেয়ারে ৫০ টাকা তার মূলধনি মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইন।

ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর বিদ্যমান কর অব্যাহতির সীমা তুলে দিয়ে পুরো মুনাফা করমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনি মুনাফার ওপর আরোপিত করব্যবস্থাও পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি রয়েছে। এর বেশি মুনাফার ওপর সাধারণভাবে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। ডিবিএ মনে করে, এ করব্যবস্থার পরিবর্তে পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা অর্জিত মুনাফা পুনরায় বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।

আরও পড়ুন

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা করমুক্ত করা যেতে পারে। তবে কোম্পানির স্পনসর, পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে ডিবিএ।

সংগঠনটির মতে, এ ধরনের কর সুবিধা চালু হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে এবং দেশীয় সঞ্চয়ের উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে আরও উৎসাহিত হতে পারে।

কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণের পেছনে কেন্দ্রীয় কাউন্টারপার্টি ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরুর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ এবং কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে তারা মনে করে। এ বিবেচনায় সিসিবিএলের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ কর অব্যাহতি কার্যকর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad