ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই বিক্ষোভে অন্তত তিনটি স্থানে ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর ফলে ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে যান। তবে গোলচত্বর ত্যাগ করলেও ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার, মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।
দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে আসা ১২০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক ওই কারখানায় এবং পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
পরে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিট থেকে ৩টা ২৫ মিনিটের মধ্যে শাহ আলী থানাধীন মল্লিক টাওয়ারেও ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। পুলিশের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১০ নম্বরে তৌফিক নামের এক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মল্লিক টাওয়ারে ভাঙচুর চালিয়ে মিরপুর-২ নম্বরের দিকে চলে যান।
অন্যদিকে, পল্লবী থানাধীন কালশী আদর্শ নগরের ২২ তলা গার্মেন্টস পল্লীতেও ভাঙচুর চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। পুলিশ জানায়, বিকাল ৩টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ২৫ মিনিটের মধ্যে বহিরাগত ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এভাবে প্রায় সারা দিন শ্রমিকদের তাণ্ডব মিরপুর ও পল্লবীর একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে মিরপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


