শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন নাসরিন আক্তার মুক্তা। স্বপ্ন ছিল, একদিন হয়ে উঠবেন শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষকদের একজন। সেই স্বপ্ন পূরণে শিক্ষকতাকেও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। অল্প সময়েই শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই শিক্ষিকা। তবে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে থেমে গেল তার পথচলা। অপূর্ণই থেকে গেল আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন।
শনিবার সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন নাসরিন। তিনি সাভারের আশুলিয়ার নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে স্কুলের শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নাসরিনের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা করা এবং শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলা।
শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন নাসরিন। সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে এসএসসি এবং সাভার মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) থেকে স্নাতক এবং গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
অনেক দিন ধরেই বান্ধবীদের সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। সময় ও সুযোগের অভাবে এত দিন তা হয়ে উঠছিল না। এবারের দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে সেই ইচ্ছা পূরণে দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভ্রমণই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। নাসরিনের দুই বান্ধবী আইরিন জাহান মীম ও ইমা তখন কক্ষ থেকে বেরিয়ে কয়েক গজ দূরে হাঁটছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে।
নাসরিনের বাবা মোস্তফা কামাল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। মা নাছিমা আক্তার খুশী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাসরিন ছিলেন বড়।
শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।


