খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে ৬ হাজার ৬৫৩ শূন্যপদ দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩ শূন্যপদ রয়েছে। এসব পদ দ্রুত পূরণের ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকার সচেতন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশু খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। সংস্থাটির প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পর্যবেক্ষণে মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে।
বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে কৃষিজমি কমে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে জমির অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণে উপকারভোগী নির্বাচনের ত্রুটি এড়াতে প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করার সুপারিশও করেন তিনি।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ কমিটির সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।


