কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা জোরদার

কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা জোরদার
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে কক্সবাজারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এ বছর জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৫৪টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ১৭০টিতে ঘট পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।

আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বিপুল জনসমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটকদের সুরক্ষায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার জেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু হবে। ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। ওই দিন লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বসবে সম্প্রীতির মিলনমেলা। আয়োজকদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এ বিসর্জন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে চকরিয়া উপজেলায়, ৭১টি। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৮টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে এবং মহেশখালী পৌরসভা ও টেকনাফে ছয়টি করে মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উখিয়ার মণ্ডপের তালিকায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি মণ্ডপও রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা, কক্সবাজার পৌরসভা ও ঈদগাঁওয়ে মোট ৮৮টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ৪৬টিতে প্রতিমা পূজা এবং ৪২টিতে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। চকরিয়ার ৭১টি মণ্ডপের মধ্যে ৪১টিতে প্রতিমা পূজা ও ৩০টিতে ঘট পূজা হবে। কুতুবদিয়ার ৪৪টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪টিতে প্রতিমা পূজা এবং ৩০টিতে ঘট পূজার আয়োজন করা হয়েছে। রামুর ৩৭টি মণ্ডপের মধ্যে ২৩টিতে প্রতিমা পূজা ও ১৪টিতে ঘট পূজা হবে। টেকনাফের ছয়টি মণ্ডপের মধ্যে পাঁচটিতে প্রতিমা পূজা এবং একটিতে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসহ নয়টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী বাপ্পি শর্মা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছয়টি বেড়েছে। দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে মণ্ডপ কমিটিগুলো কাজ করছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ বলেন, এ বছর জেলার ৩২৪টি মণ্ডপে পূজা হবে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা।

পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, মণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করেন তিনি।

পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ বলেন, দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এবার পূজার তিন দিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় পেশাজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। মণ্ডপপ্রতি সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দোলন ধর বলেন, দুর্গোৎসব সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে একাধিক সভা হয়েছে। সবার সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশও দায়িত্বে থাকবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad