গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বাবার জানাজা ও দাফন আটকে দিয়েছেন মেয়ে।
সোমবার সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০)। তিনি তার জীবদ্দশায় ছেলে ইদ্রিস আলীকে (৪০) প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেন। মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) এই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন।
জানা গেছে, রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মেয়ে হালিমা আপত্তি জানান। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
পরে স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী।
হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি দুপুরে বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চাই, বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হোক।’
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।
সবশেষ বিকাল ৫টার দিকে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে বোন হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকার একটি চেক সই করে দেন ভাই ইদ্রিস আলী। পরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।


