চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার এই অংশগ্রহণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন দেখার সুযোগ তার আগে হয়নি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে এই আয়োজন তাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের গর্ব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী নটু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতারা।
আয়োজকদের সঙ্গে পৃথক কথোপকথনে জানা যায়, তাদের জানামতে, এর আগে চট্টগ্রামের কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেননি। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আশ্বাসে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তার আন্তরিক আচরণ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করলেই উৎসব সফল হয় না। দর্শনার্থীরা কতটা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবে আসা প্রত্যেকে যেন সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাস বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।


