সীতাকুণ্ডে ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, তিনজনই এক ইউনিয়নের

সীতাকুণ্ডে ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, তিনজনই এক ইউনিয়নের
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনই উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চার বছর বয়সী লামিয়া আক্তার নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

নিহত লামিয়া আক্তার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বার আউলিয়া দরগার পশ্চিম পাশে ভূঁইয়া বাড়ির মৃত মো. ইমাম হোসেন ইমনের মেয়ে।

লামিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক বলেন, ‘লামিয়া নামের এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে আমরা জেনেছি। এ নিয়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হলো।’

লামিয়ার এক আত্মীয় জানান, চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল লামিয়া। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে দ্রুত তাকে বিআইটিআইডি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। পরে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

উপজেলায় ধারাবাহিক এই মৃত্যুর মধ্যে প্রথমটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে মো. মোজাহিদুল ইসলাম নামের চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহ পর ১৫ সেপ্টেম্বর ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতলি গ্রামে মো. রাফসান (২৪) নামের এক তরুণ মারা যান।

এর একদিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু সিরাজুম মুনিরার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাজলীপাড়া এলাকার কোরবান আলী রিফাত (১৭) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর বৃহস্পতিবার মারা গেল লামিয়া।

এ হিসাবে গত ১৬ দিনে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সোনাইছড়ি ইউনিয়নেই মারা গেছেন তিনজন।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে গত সপ্তাহ থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারও ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

শোভন ভৌমিক বলেন, শুধু মশকনিধন কার্যক্রম চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য মানুষের সচেতনতা জরুরি। শুক্রবার ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। শনিবার একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad