সিরাজগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শিউলী খাতুন (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে।
শিউলী সদর উপজেলার উত্তর সারুটিয়া গ্রামের মো. মাহিম শেখের স্ত্রী। এ ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে নিহতের ভাই মো. পান্না শেখ সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শিউলীকে শহরের মুজিব সড়কের পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর বুকে ব্যথার কথা জানান তিনি। বিষয়টি চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সন্ধ্যার দিকে তাকে আবার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দ্বিতীয় অপারেশনের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে নতুন করে অনুমতি নেওয়া হয়নি। অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় তাকে অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে বেডে দেওয়া হয়। তখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিউলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে যায় বলে স্বজনদের দাবি।
নিহতের স্বামী মো. মাহিম শেখ বলেন, ‘আমরা শুধু সিজার অপারেশনের অনুমতি দিয়েছিলাম। আমাদের না জানিয়ে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এজাহারে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ, ডা. রোমেল ও পরিচালক মো. কামাল তালুকদারকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বজনরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


