নির্ধারিত সময়ের আগেই আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ পুনরায় চালু হয়েছে। এতে বিদ্যুতের সংকটে থাকা বাংলাদেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা হয়। ফলে দুপুরের আগেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ বুধবার রাতে বয়লারে ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়ে বাংলাদেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়। এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন ঘাটতির পর কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াচ্ছিল।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারাও কেন্দ্রটির ইউনিট বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, মেরামতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে দেশে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন এমনিতেই চাপে রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেলপথে বাধা , লোডিংয়ে বিধিনিষেধ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আগস্টের মাঝামাঝি থেকে গোড্ডা কেন্দ্রটি কম সক্ষমতায় চলছিল। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে উৎপাদনও বাড়তে থাকে। তখন দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল।
সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। বিপরীতে চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।


