সংঘাত সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৈঠকে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির চলাচল এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। চলতি বছরে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
শুক্রবারের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন মোদি ও পুতিন। এসব সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে বলে জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।
নরেন্দ্র মোদি বৈঠকের আগে পুতিনকে ভারতের প্রখ্যাত তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুবল্লুভরের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। বইটিতে কৃষি ও কৃষকদের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে মোদি ও পুতিন গাড়িতে করে একসঙ্গে যাত্রা করেন। দুই নেতার একসঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণের ঘটনা এটি নিয়ে তৃতীয়বার।
পুতিন তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে এবারই প্রথম তিনি সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।
পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও ভারত সফর করছে। এর আগে গত সপ্তাহে বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রসঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ‘চলমান যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে’ এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বলে জানা গেছে। চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ার হিসেবে ভারত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা এবং আমন্ত্রিত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেতারা মতবিনিময় করবেন।


