কুষ্টিয়ায় পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ, ১৮ স্কুলে পাঠদান বন্ধ

কুষ্টিয়ায় পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ, ১৮ স্কুলে পাঠদান বন্ধ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীভাঙন ও সাপের উপদ্রব নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান নিরুৎসাহিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে বৃহস্পতিবার থেকে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে।

চিলমারী ইউনিয়নের পদ্মাতীরবর্তী সীমান্তঘেঁষা উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যোগাযোগের সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে পানি উঠে গেছে। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করায় বাড়ির চারপাশ ডুবে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

আরেক বাসিন্দা মোজাম বলেন, প্রতিবছরই তাদের এলাকায় পানির ভয় থাকে। এবার পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত এলাকায় সাপের আতঙ্কও বেড়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঝোপঝাড়, গর্ত ও নিচু স্থান থেকে সাপ শুকনো ও উঁচু জায়গায় উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২ দশমিক ৯৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৯০ মিটার। এর আগে তিন দিনে পদ্মায় ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায়।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্রোতও বেড়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে পাশের পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, প্লাবিত এলাকার ৩০০ পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাবিত এলাকায় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর