দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর দিনই ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতেই এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
বুধবার রাতে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ক্লিয়ারলি বোঝা যাচ্ছে যে এই পুরা প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’
দুদকের অভিযোগ, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নে ৭৬ লাখ টাকা এবং প্রায় ১৫০ জনকে পদোন্নতিতে ২ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের দাবি, ৩৮ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে আদালতের রায় বাস্তবায়নে। আর ১৮২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে পিএসসির সুপারিশে। এসব প্রক্রিয়ায় তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
২০২১ সালে ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই নবম গ্রেডের পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে আদালত ওই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। রায় বাস্তবায়নের সময় চলতি দায়িত্বে থাকা ৩৮ জনকে আগের পদে ফেরানো হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আদালতের রায় বাস্তবায়ন, চলতি দায়িত্ব বাতিল, শূন্যপদ সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রতিটি ধাপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে।’
দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সকালে অনুসন্ধান শুরু হয়ে বিকেলেই কীভাবে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেল।
তিনি বলেন, ‘সকালে একটা জিনিসের তদন্ত হওয়ার রিপোর্ট আসলো, অনুসন্ধান হওয়ার রিপোর্ট আসলো, বিকালেই সেটার প্রমাণ কিভাবে পাওয়া যায়।’
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘মানহানির যেই যেই ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সেটা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, অনুসন্ধানটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন। আদালতের রায়, পিএসসির সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


