চাকরির আশ্বাসে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর মাদারীপুরের ডাসারের এক যুবককে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক কারবারিদের কাছে ‘বন্ধক’ রেখে তিন লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা বাকিতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এরপর ওই যুবককে টেকনাফে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গত দুই সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী সাব্বির হাওলাদার (২৫) ডাসার উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া পাড়ের রেণ্ডিতলা গ্রামের দিনমজুর শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। এইচএসসি পাস করার পর চাকরির সন্ধান করছিলেন তিনি। অভিযোগের তীর একই এলাকার নোয়াবালি বেপারীর ছেলে আসাদ বেপারীর দিকে।
পরিবারের ভাষ্য, প্রায় এক মাস আগে রাজধানী ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী আসাদ বেপারী সাব্বিরকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে সাব্বির একদিন পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, তাকে কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাব্বিরের পরিবারের অভিযোগ, সেখানে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা বাকিতে সংগ্রহ করেন আসাদ। ওই ইয়াবা নিয়ে তিনি এলাকায় ফিরে এলেও টাকা পরিশোধ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাব্বিরকে সেখানে ‘জামানত’ হিসেবে আটকে রাখা হয়েছে বলে পরিবারকে জানান তিনি।
এরপর থেকে সাব্বিরের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। কোথায়, কী অবস্থায় এবং কার কাছে তিনি রয়েছেন—এ নিয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত স্বজনরা।
সাব্বিরের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় আসাদ বেপারী। পরে জানতে পারি, টেকনাফে তাকে বন্ধক রেখে তিন লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে গেছে। এক মাসে ছেলের সঙ্গে মাত্র একবার কথা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। আমার ছেলে কোথায়, কী অবস্থায় আছে জানি না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসাদ বেপারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পরিবারের দাবি, দ্রুত সাব্বিরের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


