আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ও সমাবেশ। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে মহানগর, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চলছে ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সৃষ্টি হবে বিশাল ‘জনস্রোত’।
কর্মসূচিকে সফল করতে ইতোমধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পর্যায়ে সভা, সমন্বয় ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি। একই সঙ্গে লংমার্চের মূল বহরকে অভ্যর্থনা, নগরীতে প্রবেশ, র্যালি, সমাবেশস্থলে যাতায়াত এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে আলাদা পরিকল্পনা।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে জনগণের কয়েকটি ন্যায্য ও জরুরি দাবি তুলে ধরা হবে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, এসব দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সরেজমিনে লালদিঘি মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চ প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে আসা হয়েছে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে মাঠ পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ ১১ দলের নেতৃবৃন্দ।
মিরসরাইয়ে প্রথম অভ্যর্থনা, এরপর নগরীতে র্যালি
ঢাকা থেকে শুরু হওয়া লংমার্চ মিরসরাই পর্যন্ত ছোট ছোট পথসভার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে আসবে। লংমার্চের মূল বহর চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মিরসরাই এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় নেতৃবৃন্দকে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখান থেকে লংমার্চের একটি বর্ণাঢ্য র্যালি চট্টগ্রাম নগরীর জিইসির মোড়ের দিকে অগ্রসর হবে। জিইসির মোড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দ্বিতীয় দফায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এরপর সেখান থেকে র্যালি ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশস্থলে নেওয়া হবে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লালদিঘী ময়দানে মূল কর্মসূচি শুরু হবে বিকাল ৪টায়। বিকাল ৪টা থেকে মাগরিবের নামাজ পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাগরিবের নামাজের পর শুরু হবে লংমার্চ-পরবর্তী মূল জনসভা।
ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ে প্রস্তুতি
কর্মসূচিকে ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর শোয়ায়েব বলেন, তাদের সার্বিক প্রস্তুতি দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক সভা হচ্ছে এবং কর্মসূচি সফল করতে জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি অত্যন্ত সফল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
লালদিঘীতে বড় জমায়েতের প্রত্যাশা
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচিতে অংশ নিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, অতীতের বড় বড় জনসভার মতোই লালদিঘী ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে।
প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়
লংমার্চ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন আয়োজকরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লংমার্চ ও সমাবেশ নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
যানজট এড়াতে আলাদা ট্রাফিক ও পার্কিং পরিকল্পনা
বিপুল মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীতে যাতে অতিরিক্ত যানজট বা ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মীর শোয়ায়েব বলেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া বাস ও অন্যান্য যানবাহনের বহর নগরীর অভ্যন্তরের র্যালিতে প্রবেশ করবে না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কয়েকটি গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহনগুলো নির্ধারিত পার্কিং জোনে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শহরের প্রবেশদ্বার সিটি গেট এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট স্থান ও অলিগলিতে যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
সব মিলিয়ে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে ঘিরে চট্টগ্রামে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সাংগঠনিক সভা থেকে শুরু করে অভ্যর্থনা, র্যালি, সমাবেশ, পার্কিং ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ এবং লালদিঘী ময়দানের জনসভায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বন্দরনগরীতে তৈরি হবে দৃশ্যমান ‘জনস্রোত’। তাদের মতে, জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।


