নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক এলাকায় অনেকটা অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে একদল স্কুলশিক্ষার্থী। টিফিনের বিরতিতে খাবার খেতে স্কুলের বাইরে বের হওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ধাদিং জেলার ওই স্কুলের অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও কেবল শিক্ষকদের দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। প্রবল বেগে পানি আছড়ে পড়ার কিছুক্ষণ আগেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বন্যার ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ আছে। বেঁচে ফেরা এক শিক্ষার্থীর মা লক্ষ্মী শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘শিক্ষকরা বলেছিলেন, “বন্যা এসেছে, ব্যাগ ও খাবারের বক্স রেখে চলে যাও।” এভাবেই তারা বেঁচে গেছে।’

গত বুধবার তিব্বত সীমান্তে হিমালয়ের হিমবাহধসে ঘন কাদা আর পাথরের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চল। এরপর জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে তিন দিন সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে নেপাল সরকার।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকা অবস্থায়ই রোববার ওই স্কুলে ফিরতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে দেখা যায় তাদের পরিবারের সদস্যদের। তারা শিশুদের বই-খাতা, ব্যাগসহ যেসব জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব, সেগুলো খুঁজে দেখেন।

এদিন স্কুলের বেঞ্চ, দেয়াল ও খাতার ওপর পুরু বাদামি ও ধূসর কাদার স্তর জমে ছিল। স্কুলের আঙিনা ভরে গেছে পলি ও কাদায়। দেয়ালে পানির উচ্চতার ছাপ রেখে গেছে আগ্রাসী বন্যা, যা থেকে বোঝা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: নেপাল ট্র্যাজেডি/ পরিচয়হীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত, সংরক্ষিত থাকবে ডিএনএ
ছোট ছোট কাদামাখা ব্যাগের স্তূপ পড়ে ছিল বেঞ্চ ও মেঝেতে। কিছু ব্যাগে এখনো রঙিন ঝুলন্ত খেলনা লাগানো ছিল। এগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একপাশে রাখাছিল।

আবার অনেক শিক্ষার্থীর ব্যাগ, বই খাতা ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে বন্যা। শিক্ষার্থী কোপিলা মিজারের মা তার ছেলের ব্যাগ খুঁজে পাননি। তবে তিনি হতাশ নন। এই মা বলেন, ‘আমার ছেলে বেঁচে আছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
নেপাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৬৯টি স্কুল ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। উদ্ধারকারী দল আরও দুর্গম এলাকায় পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


এখনো বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কবে আবার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন।
অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।


